মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st জানুয়ারি ২০১৭

বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৫

 

অধ্যায়-১

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড

১.১ ভূমিকা ঃ

শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, অনুসন্ধিৎসা ও মেধার উন্নয়নে পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনীয়তা অসীম। একজন শিক্ষার্থীর জীবনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য পাঠ্যবই তার মনের চিন্তাধারাকে সুগঠিত করে এবং একই সাথে তার মনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলে। মূলত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীকে ধারণ করে পাঠ্যবই। সমগ্র বিশে^র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানের সর্বাধিক পরিচিত মাধ্যম পাঠ্যবই। আজও তা যেমন আছে আগামী দিনেও তেমনি থাকবে।

বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ও শিক্ষার প্রসারে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনন্য। শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন সাধন, শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে আধুনিক মানসম্মত যুগোপযোগী শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আয়ত্ত করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য নৈতিক মূল্যবোধ, সততা, চরিত্র গঠন এবং জনগণ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকার ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন করেছে। এ নীতিতে উল্লেখ রয়েছে যে, শিক্ষার মূল প্রাণবিন্দু শিক্ষাক্রম। তাই শিক্ষাক্রম জাতীয় আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সমকালীন চাহিদার প্রতিফলন ঘটবে এটা যেমন প্রত্যাশিত, তেমনি শিক্ষার্থীদের বয়স, মেধা ও গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম প্রণীত হবে এটাও কাঙ্খিত। যেহেতু একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দেশের বিরাজমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, দীর্ঘদিনের লালিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ^াস, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গড়ে ওঠা বাঞ্ছনীয় তাই পরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষাক্রমে এগুলোর প্রতিফলন সুনিশ্চিত করা হবে। মূলত শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা ও কাঙ্খিত আচরণিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি দক্ষ, দেশপ্রেমিক, আত্মনির্ভরশীল, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, শ্রমনিষ্ঠ সুনাগরিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই শিক্ষার লক্ষ্য। তাই শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচী ও পাঠ্যপুস্তকের গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করা হবে। আর সেই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীর আলোকেই রচিত হবে পাঠ্যপুস্তক। পুস্তক প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখা হবে যে প্রকৃত শিক্ষা যেন জীনঘনিষ্ঠ হয় এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করে এবং চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, অনুসন্ধিৎসা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক হয়। উল্লিখিত বিষয়সমূহকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শ্রেনির পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাক্রম উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী নির্ধারণের কৌশল হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নির্ধারিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন ধারা অনুসরণ করে। সর্বস্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীতে সামাজিক, মানবীয় এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরসহ শিক্ষার প্রতিটি স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, চেতনা ও সঠিক ইতিহাস এবং দেশে বিরাজমান পারিপাশির্^কতা, মাতৃভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটে থাকে। এছাড়াও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে দেশজ আবহের পরিপ্রেক্ষিতে জীবনঘনিষ্ঠ ও অত্যাবশ্যক শিখনক্রমের ভিত্তিতে রচিত হচ্ছে। জ্ঞান, দক্ষতা অর্জন এবং মানবিক মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করে যেন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটা এবং আত্মকর্মসংস্থান ও শ্রমের প্রতি শিক্ষার্থী যেন আগ্রহী হয় এবং শ্রমের মর্যাদা উপলদ্ধি করতে পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক উন্নয়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, দক্ষ, অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞগণের সহায়তায় পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীর প্রতিটি বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক রচনার নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, পরিমার্জন ও সংস্কার সাধনের জন্য মৌলিক ও বাস্তবভিত্তিক গবেষণা, কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণালদ্ধ ফলাফল প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং সকল ক্ষেত্রেই জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য শ্রেণি ও বিষয়ভিত্তিক সকল পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিনামূল্যে প্রতি বছরের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কাজ করছে।  

১.২     ভিশন ও মিশন

ভিশন :          মানসম্মত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক

মিশন : সৃজনশীল, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থী গঠনের লক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন

১.৩     কৌশলগত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য :

১.       শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মান উন্নয়ন

২.       পাঠ্যপুস্তকসমূহের মুদ্রণ ও বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ

৩.      শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি

 

১.৪     প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলী :

 

১.       স্কুলসমূহের কারিকুলাম ও সিলেবাস নিরীক্ষণ এবং সংস্কারের পরামর্শ প্রদান

২.       স্কুলসমূহের কারিকুলাম, সিলেবাস এবং পাঠ্যপুস্তকের কার্যকারিতা যাচাই এবং মূল্যায়ন করা

৩.      পাঠ্যপুস্তকের পান্ডুলিপি তৈরির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা